প্রচ্ছদ

সিলেট-আখাউড়া সেকশনের ফেঞ্চুগঞ্জ রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ

২৮ জুন ২০১৯, ১৯:৫৪

মামুনুর রশীদ

মামুনুর রশীদ, ফেঞ্চুগঞ্জ :
সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের ফেঞ্চুগঞ্জের রেলসেতু ঝুঁকিপূর্ণ। ১২৮ বছরের পুরনো এ সেতু নিয়মিত রক্ষনা বেক্ষন না করায় সেতুটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করছে ট্রেন। এরফলে প্রায়শই দুর্ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ গত ২৩ জুন রোববার রাতে কুলাউড়া বরমচালে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেন দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হন। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটির সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

সিলেট রেল স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ১৮৯১ সালে সর্বপ্রথম সিলেট অঞ্চলে রেল যোগাযোগ চালু হয় আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের অধীনে। ব্রিটিশ আমলে মোগলাবাজার ও ফেঞ্চুগঞ্জ রেল ষ্টেশনের মধ্যবর্তী কুশিয়ারা নদীর ওপর সেতুটি নির্মিত হয়।

সিলেট-আখাউড়া সেকশনের ৪২নং ওই সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ফুট। ওই সেতুর নির্মাণকাল ইতিমধ্যে ১০৯ বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০০৩ সালে সেতুর মধ্য ভাগের পিলারে তিন দফা ফাটল দেখা দেয়। ইট সিমেন্টের তৈরি পিলার মেরামতে রেলওয়ের বিভাগীয় প্রকৌশলী বরাবরে নকশা পাঠানো হলেও সেতু সংস্কারে এখনোও কোন পদক্ষেপ নেয়নি বাংলাদেশ রেলওয়ে। অথচ ব্রিটিশ আমলে নির্মিত সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ রেলসেতুর অন্যতম। কেবল সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ তা নং সেতুর ওপরের রেল লাইনের অবস্থাও বেহাল।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত এ সকল বিষয় দেখার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কখনো ঝুঁকিপূর্ণ ওই সেতু পরিদর্শনে যাননি। অবশ্যই কর্তৃপক্ষ এটাকে খুব মারাত্বক হিসেবে চিহ্নিত করতে অপারকতা প্রকাশ করেছেন।

তৎকালীন সময়ের উপযোগী ওই সেতুতে ৯টি গার্ডার রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ওই সেতু যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ফেঞ্চুগঞ্জ সারকারখানার প্রকৌশলীদের সহায়তায় ফাটলটি মেরামত করে রেলওয়ে। ২০০৩ সালে ওই সেতুতে আবারও ক্র্যাক সৃষ্টি হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তারা কুইক সেটিং দিয়ে ওই ক্র্যাক মেরামত করেন। সেতুটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে যে আন্তনগর ট্রেনগুলো খুব ধীর গতিতে সেতুটি অতিক্রম করে। ফলে এমন বেহাল দশার মধ্যেই যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেনগুলো চলাচল করছে।

জানা যায়, ২ জুন বাহুবলের রশীদপুরে ট্রেনের বগি লাইন চ্যুত হলে ১৬ ঘন্টা সিলেটের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকে। গত ৬ এপ্রিল মাইজগাঁওয়ে মালবাহী ও ২৯ এপ্রিল ফেঞ্চুগঞ্জের মল্লিকপুরে জালালাবাদ ট্রেনটি লাইন চ্যুত হয়। ২ ফেব্রুয়ারি সিলেটের লাল মাটিয়ায় মালবাহী ট্রেন লাইন চ্যুত হলে ৩ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।

২০১৭ সালে মাইজগাঁও রেল ষ্টেশনে এসে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, ঢাকা- সিলেট রুটে দুর্বল সেতুগুলোর স্থলে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।
কিন্তু তার এ বক্তব্যের দু’বছর অতিক্রম হলেও সেতু মেরামতের কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ বিষয়টি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষুব বিরাজ করছে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার কাজি শহীদুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-সিলেট রুটে কিছু সেতু অনেক পুরাতন এগুলো নতুন করে সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। ঝুঁকিপূর্ণ যতটি সেতু আছে সেগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষন করা হয়।