প্রচ্ছদ

পর্ব-১
বিশ্বব্রহ্মাভ

০৮ জুলাই ২০১৯, ১৭:৪৮

শুভ প্রতিদিন

আজিজুস সামাদ আজাদ ডন :
‘স্যাটারডে ক্লাব সিলেটে’ লেখাটিতে আমি কি বলতে চেয়েছি সেটা আমার দু’একজন হাতে গোনা যে পাঠক রয়েছেন তাদের বেশীর ভাগকেই বোঝাতে সক্ষম হইনি। সেরকম একজন পাঠক, একদিন বেশ আচমকা বললেন, তার রবীন্দ্রনাথের ‘পৃথিবী’ কবিতাটি ভীষন ভাল লাগে। আমি না বলে পারলাম না যে, “পৃথিবী” কবিতাটিই যদি ভাল লাগে তাহলে ‘স্যাটারডে ক্লাব সিলেটে’ লেখাটি বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে কেন। কারণ, ঐ কবিতারই গদ্য রূপ ধরে নেয়া যায় এই লেখাটিকে। তবে সেই গদ্য আমার মত করে তৈরী। “স্যাটারডে ক্লাব সিলেটে” লেখাটি বেশ দুর্বোদ্ধ হয়ে গিয়েছে শুধুমাত্র সাইন্টিফিক ব্যাখ্যা, বিজ্ঞানের কি ভাবনা সেটা নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণে।

কোন একটি লেখায় যদি লেখক অন্য কোন লেখার রেফারেন্স নিয়ে আসে, তাহলে আমি মনে করি ঐ রেফারেন্সের লেখাটিও পড়া উচিৎ, কারণ আর কিছুই নয়, সব লেখকের মনেই একটি বিষয় কাজ করে যে, আমি তো এই কথাগুলো আরেকটি লেখায় বলেইছি, সুতরাং, পুণরাবৃত্তির কোন মানেই হয় না। যেমন, এস্কেটোলজির উপর আমার প্রথম লেখা “গন্তব্য, শেষগন্তব্য ও ভবিতব্য”তে আমি খুব পরিষ্কার ভাবে বলেছি, এস্কেটোলজি কোন একটি মানুষের নীতি নির্ধারণকারী বিষয় নিয়ে নয়, এস্কেটোলজি মানেই আত্মার ও মানবতার ভবিতব্য বিষয়ক আলোচনা। ভবিতব্য আর গন্তব্য বা শেষগন্তব্যের মাঝে পার্থক্য এখানে আবার দ্বিতীয়বার আলোচনা করবোনা।

‘আই রোবট” মুভিটি আমার থিয়েটারে দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল। সাইন্ড সিস্টেম আর থিয়েটারের চাকচিক্যের মাঝে আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম বলেই কিনা জানিনা, মুভিটির সব কিছুই ভাল লাগলেও অনেক কিছুই আমার বোধে ধাক্কা দেয়নি। শুধু মনে হয়েছে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের উত্থানে রোবটেরা একদিন মানব জাতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষনা করে বসলে কি ঘটতে পারে সেই ভবিষ্যৎ ভাবনাই চিত্রনাট্যের মৌলিক উপাদান। পরে ঘরে বসে কয়েকবার মুভিটি দেখার পর মনে হল, নাহ, গল্পকার আরও অনেক কথাই বলে গিয়েছেন। বলে গিয়েছেন মানব সৃষ্টির কথা, বলে গিয়েছেন রোবটের হাজারো উন্নতির পরেও মানুষের সাথে রোবটের পার্থক্যের কথা।

মুভিটির একটি যায়গায় আমাকে বেশ নাড়া দিয়েছে। একটি এক্সিডেন্টে যখন একই সময়ে একজন পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ এবং একটি শিশুকে বাঁচাবার প্রশ্ন এসে সামনে দাঁড়ালো, তখন রোবটিক রেশনালিজম বা যৌক্তিক ব্যাখ্যায় রোবটটি সিদ্ধান্ত নিলো, যেহেতু পূর্ণ বয়স্ক মানুষটির বাঁচার সম্ভবনা ৪৫% এবং শিশুটির বাঁচার সম্ভবনা ১১%, সুতরাং, বহু অনুরোধ সত্ত্বেও পুরুষটিকেই বাঁচানো উচিত বলে রবোটটি সিদ্ধান্ত নিলো। আমার মতে এমনকি যদি শিশুটির বাঁচার সম্ভবনা ৪৪% ও হতো, তারপরও রোবটটি ৪৫% কেই বাঁচাতো।

এখানেই আমার প্রশ্ন। যদিও ছবির নায়কের সিদ্ধান্ত ছিল বাঁচার সম্ভবনার ভিত্তিতে নয়, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে শিশুটিকেই বাঁচানো উচিৎ ছিল, অর্থাৎ, সেটা মানবিক আবেগীয় সিদ্ধান্ত। তাহলে কি আমরা ধরে নেবো মানুষ সর্বাবস্থায় আবেগীয় সিদ্ধান্ত নেয়, যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নয়। অথবা, একই পরিস্থিতিতে প্রতিটি মানুষ কি একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়? নাহ, নেয় না। পরিবেশ পরিস্থিতি এবং মানুষটির ঐ সময়ের মানসিক অবস্থান, মানুষের বেড়ে ওঠার সার্বিক অবস্থা তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবেই। এখানেই চলে আসে নায়ক আর খলনায়কের ব্যাখ্যা। কোন একটি পরিস্থিতিতে নেয়া এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের সাথে যদি বেশীর ভাগ মানুষের হ’তে পারতো সিদ্ধান্তের মিল থাকে তবেই সে নায়ক।

একটি শিশু কি পরিবেশে, কি জেনে, কি বিশ্বাস নিয়ে বড় হয়েছে সেটাই প্রভাব ফেলে সেই শিশুর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত সমুহে। তাহলে কি রোবট এবং মানুষের পার্থক্য একটি যায়গাতেই? যৌক্তিকতার কঠোরতার বাইরে, অনুশীলন ও পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রেইনের শিক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগই মানুষ আর রোবটকে আলাদা করে দেয়? অবশ্যই এটুকু ঠিক আছে। তবে, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সও আজ যৌক্তিকতার কঠোরতার বাইরে, অনুশীলন ও পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে তার দ্বারা সংগঠিত ভুলগুলো থেকে শিক্ষণ পদ্ধতির প্রয়োগে এতই উন্নত যে, এই বিষয়ে চরম উৎকর্ষতায় পৌঁছানো এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এস্কেটোলজি এবং ধর্ম : বৈশিষ্টগত ভাবে মহাবিশ্বের সবকিছুই একে অপরের সাথে একই সূত্রে গাঁথা। সেই সূত্র খুঁজতে যেয়ে এস্কেটোলজি বিষয়ে আমার জানার আগ্রহ জন্ম নেয়। সমস্যা হল, এস্কেটোলজি বিষয়টি ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে গড়ে উঠবার কারণে প্রায় প্রতিটি ধর্মেরই এই বিষয়ে নিজস্ব চিন্তা ভাবনা আছে। কিন্ত আমার ধর্ম বিশ্বাসের সাথে তাল মিলিয়ে গড়ে ওঠা এস্কেটোলজির ওপর লেখা বা বই খুব কম পাওয়া যায়। এমনকি সুফিবাদী বিপ্লবীয় চিন্তা ভাবনার যুগেও এস্কেটোলজি নিয়ে কথা বার্তা খুব কম হয়েছে। যতটুকু চিন্তা ভাবনা হয়েছে সেটা দ্বাদশ শতক পর্যন্ত বুখারা ও পারস্য কেন্দ্রীক। কারণ খুঁজতে যেয়ে আমার মনে হয়েছে, আমাদের ধর্মও ঐ সময়ের পরে এসে মুক্ত চিন্তার গন্ডিকে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে, জ্ঞান চর্চা ও ধর্ম কে আলাদা করে দিয়েছে। অথচ দু’টো বিষয় একে অপরের পরিপূরক হওয়া উচিৎ বলে আমার মনে হয়েছে। অন্যদিকে এস্কোটোলজি নিয়ে নিজস্ব চিন্তা ভাবনার বাইরে কিছু বুঝতে হলে, এস্কেটোলজিয় ভাবনায় আমার ধর্মীয় বিশ্বাসের কাছাকাছি খ্রিষ্টিয় চিন্তাবিদদের লেখা সাহায্য করতে পারবে কিনা সেটাতে আমার প্রচুর সন্দেহ আছে।

ইসলামী ধর্ম বিশ্বাস নিয়ে এস্কেটোলজি সম্পর্কিত কিছু ভাবনা বিখ্যাত দার্শনিক, বিজ্ঞানী, কবি ওমর খৈয়ামের লেখায় পাওয়া যায়। তবে উনি এই বিষয়ে গভীরে যাননি। তার এক বিখ্যাত এস্কেটোলজিও উক্তি, “এমন এক দরজা যার কোন চাবী খুঁজে পাইনি, কারণ, এমন একটা পর্দা ছিল যার কারণে আমি দেখতে পাইনি”। ওমর খৈয়ামের আমার সবচেয়ে প্রিয় এস্কেটোলজিও উক্তি, “জ্ঞানের সুধা পান কর জানার জন্য, তুমি কোথা থেকে এসেছ, কেন এসেছো, তুমি কোথায় যাচ্ছ এবং কেন যাচ্ছ”।

এস্কেটোলজির আলোচনায় একক সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক সৃষ্টির সেরা জীবকে প্রদত্ত জীবন পদ্ধতি পরিচালনা করবার সারতত্ত্ব হিসেবে ধর্মগ্রন্থের স্থান থাকবে, ইংরেজীতে যাকে বলা যায় “USER MANUEL”।

“এস্কেটোলজি” উৎপত্তি ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, মাত্র উনিশ শতকের প্রথমার্ধে এস্কেটোলজি শব্দটির ইংরেজিতে ব্যবহার শুরু হয়েছে। শব্দটির ব্যপক প্রচলন হয়েছে বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশকের কাছাকাছি সময়ে। আর একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকেই এর চুড়ান্ত ব্যবহার হয়েছে এবং এখনো চলছে। এত কথা বললাম, শব্দটি আমার প্রজন্মের শব্দ বোঝাবার জন্য, সুতরাং, আমার প্রজন্মের মানুষ শব্দটির ওপর আকর্ষিত হলেও বুখারা বা সুফিবাদী যুগে এই বিষয়ক আলোচনা থাকলেও, নির্দিষ্ট ভাবে এই শব্দ কেন্দ্রিক আলোচনা হবার কারণ নেই।

Eschatology শব্দের উৎপত্তি গ্রীক শব্দ eskhatos যার অর্থ “শেষ” থেকে। এস্কেটোলজি শব্দটির বাংলা পরিভাষায় অন্তত এক শব্দে প্রকাশ যোগ্য কোন শব্দ আমার চোখে পরেনি। আমি শুধু ওমর খৈয়াম বা প্ল্যাটোর মত দার্শনিকদের চিন্তা ভাবনাকে ধারন করে এস্কেটোলজিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছি। লেখাটি শেষ হবে না কখনোই, কারণ, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং জ্ঞানের শেষ সীমান্তের মাঝে ফাঁকটি এতোই বেশি যে, সেই চেষ্টা করলেও “অন্ধের দলের হাতি দর্শন” গল্পের মত অবস্থা দাঁড়াতে পারে; গল্পটি সবার জানা, তারপরও ছোট্ট করে আরেকবার বলি।

একদল অন্ধকে হাতি দেখাতে নিয়ে যাওয়া হল। কোন অন্ধ হাতির পা ধরে অনুভব করলো হাতি মানে একটি খাম্বা, আরেক অন্ধ কান ধরে মনে করলো হাতি মানে বিশাল কুলা, আরেকজন শুর বা আরেকজন শরীরের অন্য কোন অংশ ধরে একেকজন একেক রকম হাতি দেখে আসলো কিন্ত একজনের পক্ষেও হাতির সম্পুর্ন এবং সঠিক বর্ণনা দেয়া সম্ভব হল না। আমার অবস্থাও হয়তো “অন্ধের হাতি দর্শন” এর কাছাকাছি কিছু একটা দাঁড়াবে। তারপরও, জ্ঞানের সাগরে গা ভাসিয়ে জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং জ্ঞানের শেষ সীমান্তের মাঝে ফাঁকটুকু বন্ধ করার চেষ্টা না করে, বিজ্ঞানের বিভিন্ন ইকুয়েশনের জটিলতার বাইরে গিয়ে, একজন শিল্পীর মত নিজের মনের রঙ তুলিতে এস্কেটোলজিকে রাঙিয়ে তোলার কাজে চেষ্টা চলতে অসুবিধা খুঁজে পাইনি।

আমরা কিছু মহাজ্ঞানী দার্শনিকের উক্তি দিয়ে শুরু করি। প্রথমেই প্ল্যাটোর রিপাবলিক গ্রন্থ থেকে একটা উক্তি উল্লেখ করি, “in every man there is an eye of the soul which is far more precious than ten thousand bodily eyes, for by it alone is truth seen……। আবার The Eye in the Triangle বইটিতে জনাব রিগার্ডি বলেছেন “only by the reconciliation of opposing forces is the pathway made to true occult knowledge and practical power…”।
এস্কেটোলজিয় ব্যাখ্যার বিশালতায় না যেয়ে ছোট্ট করে বলা যায়, এস্কেটোলজি ধর্মতত্ত্বের সেই বিষয় যা শেষ বিচার, জন্ম, মৃত্যং, আত্মার এবং মানবতার ভবিতব্য নিয়ে আলোচনা করে। এটা আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা নয়, এটা অক্সফোর্ড ডিকশনারির খ্রিষ্টিয় ব্যাখ্যা। খ্রিষ্টিয় ব্যাখ্যা বলার কারন ব্যাখ্যার শেষে কোটেশনের মধ্য দিয়ে বলা হয়েছে,
“Christian hope is concerned with eschatology, or science of last things”.
আমরা এস্কেটোলজির ব্যাখ্যার সব কিছু বাদ দিয়ে “শেষবিচার” শব্দটিকে নিয়ে পথ চলা শুরু করি,

অর্থাৎ, জ্ঞানের সেই শাখা যেখানে শেষ বিচার বিষয়ক আলোচনা করা হয়। যেই মুহুর্তে শেষ বিচার শব্দটি উচ্চারণ করা হল সেই মুহুর্তে স্বীকার করে নেয়া হল,
১) একক, সর্বময়, সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সৃষ্টিকর্তাকে বা একাত্ববাদ।
২) জন্ম, মৃত্যু, প্রজনন, জীবন শক্তি।
৩) আত্মার এবং মানবতার ভবিতব্য।

এটা প্রমানীত সত্য যে, প্রতিটি এটম শুন্য দিয়ে গড়া। কারণ, একটি হাইড্রোজেন এটমের ভেতরে ইলেকক্ট্রন প্রোটন এবং নিউট্রন মিলে যায়গা নিচ্ছে মাত্র ০.০০০০০০০০০০০০৪% যায়গা। বাকিটা শুন্য। একই ভাবে মানুষও একই ধরনেরই কিছু এটম কণিকা দিয়ে তৈরী। এখন মানুষকেও যদি এটমে বিভক্ত করা যায় তবে সেই একই ফলাফল, বারোটা শুনের পর ৪ বসাতে হবে, অর্থাৎ, প্রায় শুন্যই। মহাকাশে যদি যাই তাহলেও প্রায় একই উত্তর পাবো। যদিও মহাকাশবিজ্ঞানীরা মহাকাশের এই শুন্যকে আবার ভাগ করেছেন, আন্টিম্যাটার, এন্টিএনার্জি, ডার্ক ম্যাটার ইত্যাদি অপ্রমাণিত শুন্যতার ব্যাখা দিয়ে কিন্ত শুন্য তো শুন্যই।

সবই যদি শুন্য হয় তবে আমরা কে, কেন, কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি ইত্যাদি প্রশ্ন স্বাভাবিক ভাবেই সবচেয়ে আগে চলে আসবে। চলে আসবে মৃত্যুর আলোচনা, যা কিনা আপাত দৃষ্টির এই ত্রৈমাত্রিক বিশ্বের প্রেক্ষাপটে শুন্য বলে প্রমানিত “দেহ” থেকে জীবন শক্তির বা আত্মার প্রস্থান এবং সর্বোপরি মানব সংক্রান্ত সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়েই আলোচনা। আর মানুষ সংক্রান্ত আলোচনা মানেই মানবতা নিয়ে আলোচনা।
আরো আসবে কিছু আধি ভৌতিক প্রশ্ন। কেন বাতাসের ছায়া পরে না অথচ মানুষের বা অন্য অনেক বস্তুর (কঠিন, তরল) ছায়া পরে। সবই তো একই ধরনের শুন্য দিয়ে তৈরী, তাহলে আলোর কণিকা “ফোটন” দুই যায়গায় দুই রকম ব্যবহার করবে কেন? কেন আমাদের শরীরের শুন্যতা কোন একটি দেয়ালের শুন্যতাকে ভেদ করে অন্য পাশে যেতে পারে না। কেন কিছু কঠিন বস্ত স্বচ্ছ আবার কিছু কঠিন বস্তু অস্বচ্ছ। এখানেই চলে আসে।-…………..চলবে

লেখক বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও কলামিস্ট। (দেশের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের জ্যেষ্ঠ ছেলে)।