প্রচ্ছদ

বিয়ানীবাজার উপজেলার আলীনগর ইউপিতে
সালিশ চলাকালে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত-৩

১০ জুলাই ২০১৯, ০১:১৭

শুভ প্রতিদিন

প্রতিদিন ডেস্ক :
বিয়ানীবাজারের ১ নম্বর আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে সালিশ চলাকালে চেয়ারম্যানের মামুনুর রশীদ মামুনের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের টিকরপাড়া গ্রামের ফয়জুর রহমান (৫৮), তার ছেলে জুবের আহমদ (২৩) ও রুহেল আহমদ (২১)। গত সোমবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন সভাকক্ষে সালিশ বৈঠকে এ ঘটনাটি ঘটে।

হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় ফয়জুর রহমান ও জুবের আহমদকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, প্রায় ৪ মাস পূর্বে খেলাকে কেন্দ্র করে আলীনগর পুবের গ্রামের বাজিদ আহমদের ছেলে ছাদ আহমদ, ইসমাঈল আলীর ছেলে আজহার আহমদ রিফাত, ওয়াজিদ আলীর ছেলে সাইদুর রহমান ও মামুন আহমদসহ অন্যরা টিকরপাড়া গ্রামের ফয়জুর রহমানের ছেলে জুবের আহমদকে লাঠিপেটা করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়।

এ সময় আলীনগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন উপস্থিত হয়ে গাড়ী দিয়ে জুবের আহমদকে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

এ ঘটনায় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন ছেলের বাবা ফয়জুর রহমানকে মামলা না দিতে বাধ্য করেন এবং বিচারের মাধ্যমে এর সুষ্টু সমাধানের আশ্বাস দেন।

তাঁরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন সভাকক্ষে সালিশ বৈঠকে বসা হয়।

ওই সালিশ চলাকালীন সময়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ ছাদ আহমদ, আজহার আহমদ রিফাত, সাইদুর রহমান, মামুন আহমদসহ অন্যরা হঠাৎ তাদের উপর হামলা করে। হামলায় ফয়জুর রহমান ও জুবের আহমদ মারাত্মক আহত হন। তারা এখন এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

আহত ফয়জুর রহমান জানান, আমাদের বিচার করে দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন আমাকে ইউনিয়নে যেতে বলেন এবং আমার সাথে আমার ভাই মাসুক মিয়া, আমার ছেলে জুবের আহমদ, রুহেল আহমদ এবং শেখ ফয়সল আহমদ ও শামিমকে নিয়ে ইউনিয়ন সভাকক্ষে উপস্থিত থাকতে বলেন। আমি যথাসময়ে উপস্থিত হই। অন্যদিকে প্রায় ২৪/২৫ জন লোক নিয়ে ছাদ আহমদ, আজহার আহমদ রিফাত, সাইদুর রহমান, মামুন আহমদ গংরা উপস্থিত হয়।

একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আমার বড় ছেলে জুবের আহমদের উপর আক্রমণ করা হয়। আমি ধরতে গেলে আমাকে ও আমার ২য় ছেলে রুহেলকে মারাত্মক আহত করা হয়। আমাদের উপর আক্রমণ তাদের পূর্ব পরিকল্পিত।

তিনি আরও জানান, ইউনিয়নের সবাই জানে ছাদ আহমদ হিরোইন ও ইয়াবা ব্যবসায়ী।

এছাড়া আজহার আহমদ রিফাত চাঁদাবাজ ও ছিনতাইকারী। তাদেরকে র‌্যাব ও পুলিশ কয়েকবার গ্রেপ্তার করেছে। তারা কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে এলাকায় বিভিন্ন অপকর্ম করে বেড়ায়, কেউ কিছু বললে তাদের মারধর করে। এই কিছুদিন পূর্বে উত্তরভাগ নয়াগ্রামের ছালাহ উদ্দিনের উপর সৈয়দ নবীব আলী কলেজ মাঠে হাজার হাজার মানুষের সামনে রামদা নিয়ে আক্রমণ করেছে।

বিয়ানীবাজার থানাতে তাদের ফটো আসামীদের তালিকায় এখনো ঝুলিয়ে রাখা আছে। এরা এলাকায় প্রতিদিন সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদেরকে চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুন মদদ দিচ্ছেন। সেজন্য এরা বারবার অপকর্ম করে ও পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেক টাকা খরছ করে এদেরকে জেল থেকে বের করে আনা হয়। তদের উপর হামলার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি। এঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান ফয়জুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ মামুনের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।