প্রচ্ছদ

বাংলাদেশে ই-সিগারেট বন্ধের আহ্বান

০৩ অক্টোবর ২০১৯, ১৭:৩৬

শুভ প্রতিদিন

প্রতিদিন ডেস্ক:

ক্ষতিকর দিক বিবেচনা করে সম্প্রতি ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩০টিরও অধিক দেশে ‘ইলেকট্রনিক (ই)-সিগারেট’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশেও এই সিগারেট বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উদ্যোগে ‘ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট (ই-সিগারেট, এইচটিপি): বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক পরিপ্রেক্ষিত ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন।

অনুষ্ঠানে সাউথ এশিয়া প্রোগ্রামস, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডস, ইউএসএ’র পরিচালক বন্দনা শাহ বলেন, তরুণ এবং শিশুদের টার্গেট করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ই-সিগারেট জাতীয় পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এসব পণ্য ব্যবহার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

‘অতি সম্প্রতি ভারতে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশেও এসব পণ্যের ব্যবহার ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই বাংলাদেশও এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও বিপণন নিষিদ্ধ করতে পারে।’

বাংলাদেশে ই-সিগারেট নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমাদের জন্য নতুন। এক সময় ই-সিগারেট জাতীয় পণ্যকে সিগারেটের নিরাপদ বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এখন বিভিন্ন গবেষণায় এর ক্ষতির বিষয়গুলো সামনে আসছে। সুতরাং আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) মো. হাবিবুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের (ই-সিগারেট, ভ্যাপিং, হিটেড টোব্যাকো) মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের তামাক পণ্য ব্যবহার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। কারণ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তামাক নিয়ে তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে ই-সিগারেটকে সুনিশ্চিতভাবে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পণ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ই-সিগারেট বিষয়ক ইউএস সার্জন জেনারেল রিপোর্ট ২০১৬-তে ই-সিগারেটসহ নিকোটিনযুক্ত সব পণ্যকে ‘অনিরাপদ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) সর্বশেষ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত দেশটির ৮০৫ জনের ফুসফুসজনিত রোগ এবং ১২ জনের মৃত্যুর সঙ্গে ই-সিগারেট/ভ্যাপিংয়ের যোগসূত্র থাকার কথা নিশ্চিত করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি এবং এফডিএ’র পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৭ সালের তুলনায় ২০১৮ সালে মাত্র এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলপড়ুয়া তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেটের ব্যবহার ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। ভ্যাপিং এবং ই-সিগারেটের ব্যবহার পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোর মধ্যে বেশি হলেও বাংলাদেশও ঝুঁকিমুক্ত নয়।

দেশে ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের ব্যবহার তরুণ এবং যুব সমাজের মধ্যে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বিক্রয় কেন্দ্র। অনলাইন এবং ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ই-সিগারেট সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে। ইতোমধ্যে পার্শ্ববতী দেশ ভারত ই-সিগারেট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া শ্রীলংকা, নেপাল, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরসহ ৩০টির অধিক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে।

এই বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগাতে হবে। ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্টের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার ও ক্ষতি থেকে তরুণ-যুব সমাজকে রক্ষা করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ই-সিগারেট, ভ্যাপিংসহ সব ধরনের ইমার্জিং টোব্যাকো প্রোডাক্ট উৎপাদন, আমদানি ও বিপণন নিষিদ্ধ করাই হবে বাংলাদেশের জন্য সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯ শতাংশই তরুণ, যাদের বয়স ২৪ বছর বা এর নিচে। ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ট হিসেবে বিবেচিত এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে সঠিক পথে পরিচালনার ওপরই বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত সমৃদ্ধি ও উন্নতি নির্ভর করছে। তামাকে আসক্ত তরুণ প্রজন্ম এসব লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করবেনা। বরং সমাজ ও অর্থনীতির জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়বে।