প্রচ্ছদ

সিলেটে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

০৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫০

শুভ প্রতিদিন

সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

জাতীয়করণ ছাড়া বিকল্প নেই-সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান

বাংলাদেশের সকল বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ না করলে ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরটের ও সাবেক শিক্ষা সচিব নজরুল ইসলাম খান। শনিবার (৫ অক্টোবর) সিলেটে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সিলেট মহানগর শিক্ষক সমিতির আয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষা জাতীয়করণ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে শতকরা ৯৮ শতাংশ বেসরকরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বৃহৎ অংশের প্রতি বৈষম্য রেখে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব না। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সমূহকে জাতীয়করণ করা না হলে দেশের বিরাট ক্ষতি হবে বলেও জানান তিনি।

সাবেক শিক্ষা সচিব আরো বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষাসহ সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহকে জাতীয়করণ করলে কি হবে না হবে এই বিষয়টা সরকারকে বুঝাতে হবে। শুধু আন্দোলন করে সবকিছু প্রতিষ্ঠা করা যায় না। কোনো কিছু প্রতিষ্ঠা করতে হলে তার যৌক্তিক কারণ দেখাতে হবে। তাহলে সরকার এটাকে গুরুত্ব দেবে।

সাবেক সচিব বলেন, আমাদের দেশে প্রত্যেক বছর প্রাথমিকের পরীক্ষা দেয় ৪০ লাখ। আর এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী। বাকিরা কোথায় যায়। কেনো ঝড়ে পড়ছে। এসব বুঝতে হবে। শিক্ষা মূল ‘ফোকাস’ চাকুরি থেকে সরিয়ে উদ্যোক্তার দিকে নিতে হবে। দেশে অনেক সম্ভাবনাময় শিল্প আছে। কিন্তু ভালো শিক্ষিত উদ্যোক্তার অভাবে এসব শিল্প থেকে কিছু আসছে না। শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য চাকুরী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্নও থাকতে হবে।

তিনি আরো বলেন, মেধাবী আর কম মেধাবী বলে কিছু নেই। সকল শিক্ষার্থীর মেধা সমান। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে কারো বিকশিত হয় আর কারো হয় না। তাই আমাদের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের জন্য বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুবই জরুরি।

তিনি বলেন, আমাদের যে শিক্ষা ব্যবস্থা তা খুব সমৃদ্ধ না। অপরিকল্পিত কারিকুলাম, শিক্ষকের প্রশিক্ষণের অভাব ও প্রযুক্তিগত নানা সমস্যার কারণে আমরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক পিছিয়ে। তাছাড়া আমাদের প্রধান শিক্ষকদের জন্য নেই কোনো পৃথক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এমনকি আমাদের দেশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই লিখেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা। যারা এসব স্তরের কারিকুলাম সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না। ফলে আমাদের কারিকুলাম একদিকে আর পাঠ্যবই একদিকে। এসব জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে ভালো করে বিষয়টি বুঝতে হবে। প্রত্যেক স্তরের শিক্ষক দিয়ে ওই স্তরের পাঠ্যবই লিখাতে হবে। সুদূঢ় প্রসারী চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নেওয়া যাবে।

সিলেট মহানগর শিক্ষক সমিতির সভাপতি আহমদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সচিব মো. জিয়াউর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব ফয়সল আহমদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় সহ সভাপতি ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফরিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এএইচএম ইসরাইল আহমদ, সিলেট জেলা সভাপতি মামুন আহমদ, জেলা সচিব শমসের আলী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. ইদ্রিস আলী বলেন, পৃথিবীর আর কোনো দেশে শিক্ষকদের বেতন কমে না। কিন্তু আমাদের দেশে বেতন বৃদ্ধির পরও আমাদের বেতন মূল স্কেল থেকে কমে যায়। আমরা সরকারের সকল কাজ বাস্তবায়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেও আমাদের সবচেয়ে বেশি বৈষম্য করা হয়। এমনকি অবসরে যাওয়ার পর সেই ভাতাটা পেতেও আমাদের অনেক কষ্ট পেতে হয়।

তিনি বলেন, সমান যোগ্যতা নিয়ে যেখানে সরকারি বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকের ১৬ হাজার টাকা বেতন স্কেল দিয়ে শুরু হয় সেখানে আমাদের বেসরকারি সহকারি শিক্ষকের স্কেল ১২ হাজার টাকা। একইভাবে প্রধান শিক্ষক ও সহকারি প্রধান শিক্ষকের স্কেলেও বৈষম্য করা হয়ে থাকে।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফরিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি স্কুলের একটি একজন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের পেছনে যত টাকা খরচ তার চেয়ে অনেক কম খরচ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হয়। শতকরা ৯৮ ভাগ প্রতিষ্ঠান বেসরকারি রেখে ২ ভাগ সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে শিক্ষাখাতকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা সম্ভব না। সেজন্য ধাপে ধাপে এমপিওভূক্ত না করে একধাপে আগামী বছর মুজিব বর্ষে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে। তা না হলেও এই শিক্ষক সমাজ এমন বৈষম্য মেনে নেবে না।

দি এইডেড হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক শেখ আব্দুল মুকিতের কোরআন তেলাওয়াত ও পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ননী গোপাল রায়ের গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর শিক্ষক সমিতির সচিব ও আব্দুল গফুর ইসলামী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জিয়াউর রহমান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সচিব আব্দুল মুমিত, সহ সভাপতি রফিকুল আলম, সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি ইনছান মিয়া, সাংগঠনিক সচিব শেখ নজরুল ইসলাম, হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি কাজি কামাল, সাংগঠনিক সচিব নুরুল আমীন রাজু, সফির উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রশিদ আহমদ. রাজা জিসি হাইস্কুলের সহকারি প্রধান শিক্ষক হাছিনা মমতাজ, ওসমানীনগর উপজেলার সভাপতি আবুল লেইছ, বালাগঞ্জ উপজেলা সহ সভাপতি সুশীল চন্দ্র নাথ, জৈন্তাপুর উপজেলা সচিব আব্দুল জলিল, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সচিব জাহের আলী, গোয়াইনঘাট উপজেলার সচিব আব্দুল মুনিম, কানাইঘাট উপজেলার সাংগঠনিক সচিব শামীম আহমদ।এছাড়াও সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারি শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন। বিজ্ঞপ্তি