প্রচ্ছদ

স্বপ্ন পূরণ হলো না তাদের
ওসমানী আন্তঃ বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হল

২৭ মে ২০১৯, ২১:২৯

শুভ প্রতিদিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
তাদের চোখে ছিল ইউরোপের স্বপ্ন। বৈধ উপায় না পেয়ে বেছে নিয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ অবৈধপন্থা। গত কয়েকদিন আগে অবৈধভাবে ইটালি যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ডুবে অর্ধশত ব্যক্তির মৃত্যুও যেন ভীতি সঞ্চার করতে পারেনি তাদের মনে। যেভাবেই হোক তাদেরকে ঢুকতে হবে ইউরোপের যে কোন একটি দেশে। সেই অদম্য স্বপ্ন নিয়ে তারা ওমরাহ হজের ভিসায় সৌদিআরবের জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার চেষ্টা করেছিল।
সৌদিআরব পৌঁছাতে পারলে সেখান থেকে তুরস্ক হয়ে গ্রিস বা সুবিধামতো যে কোন দেশে অনুপ্রবেশ করার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু বিধিবাম! তাদের সেই স্বপ্নযাত্রা সফল হয়নি। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই ফিরতে হয়েছে তাদেরকে। শুরু হয়েছে সিলেটের তিন যুবককে নিয়ে গোয়েন্দা তদন্ত।
ওমরাহ হজের ভিসায় সৌদিআরব গিয়ে পালানোর পরিকল্পনাকারী ওই তিন যুবক হলেন- সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজার থানার দৌলতপুর গ্রামের মন্তাজ আলীর ছেলে রেজওয়ান আহমদ, জকিগঞ্জের পাকুড়া গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে জাকির হোসেন ও হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার গুলধুবা গ্রামের মকদ্দস আলীর ছেলে জাহিদ উদ্দিন।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে বাংলাদেশ বিমানের বিজি ৬০২ ফ্লাইটে ঢাকা হয়ে সৌদিআরবের জেদ্দায় যাওয়ার কথা ছিল এই তিন যুবকের। বিমান উড্ডয়নের কিছুক্ষণ আগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই তিন যুবককে অফলোড করা হয়। এরপর ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
ওই ফ্লাইটের যাত্রী আটাব সিলেট জোনের সভাপতি আবদুল জব্বার জলিল  জানান, সিলেটের একটি ট্রাভেলসের মাধ্যমে ওই তিন যুবক ওমরাহ ভিসা নিয়ে জেদ্দায় যাচ্ছিল। পরে সেখান থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপের অন্য কোন ভালো দেশে পাড়ি জমানোর পরিকল্পনার কথা তারা স্বীকার করেছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী কমিশনার সাইফুজ্জামান ফারুকী বলেন, যাত্রীরা পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে ওমরা হজ্জের ভিসা নিয়ে তুরস্ক হয়ে ইউরোপ যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে। প্রাথমিকভাবে পাসপোর্ট টিকেট রেখে তাদেরকে ছেড়ে দেয়া হলেও তাদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে সোমবারই চিঠি দেয়া হয়েছে।