প্রচ্ছদ

বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে সিলেটে পোশাকের আকাশচুম্বী দাম!

29 May 2019, 15:00

শুভ প্রতিদিন
স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটে ঈদকে কেন্দ্র করে পুরুষের বিদেশি ব্যান্ডের পোশাকের নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে চলছে আকাশচুম্বী দাম আদায়। দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা পোশাকের মান বেশি, আমদানি খরছ বেশি; এমন রঙচঙা কথা বলে ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের কাছ থেকে আদায় করছেন মাত্রাতিরিক্ত মূল্য।
ক্রেতারা বলছেন- অন্যান্য বছর প্রশাসনের পক্ষ থেকে পোশাকের বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হলেও এবার তা না করায় বিদেশি ব্র্যান্ডের নামে ব্যবসায়ীরা আদায় করছেন দ্বিগুণ মূল্য। তবে প্রশাসন বলছে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নগরীর বেশিরভাগ জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে বিদেশি ব্র্যান্ডের বেশির ভাগ পোশাকেই গতবারের চেয়ে এবার প্রায় দ্বিগুণ মূল্যের ট্যাগ লাগানো হয়েছে। গত বছর যে সিকে ব্র্যান্ডের টি-শার্ট বিক্রি হয়েছিলো ৯ শত ৯৫ টাকা এবার একই টি-শার্টের গায়ে লাগানো হয়েছে ১৭ শত ২০ টাকার ট্যাগ; এমনটিও অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নগরীর মির্জাজাঙ্গাল থেকে লামাবাজার পর্যন্ত, পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ বিভিন্ন দোকান ও কুমারপাড়াস্থ বিভিন্ন দোকানে এমন আকাশচুম্বী দাম দেখা গেছে। শার্ট ১২-১৪ শত টাকা, কাতোয়ার দাম ১৫ শত টাকা পর্যন্ত। অতিরিক্ত দামের কারণে ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হলেও সেদিকে খেয়াল নেই বিক্রেতাদের।
মঙ্গলবার দুপুরে লামাবাজারস্থ ‘বেল’ থেকে টি-শার্ট কিনতে এসেছিলেন আলমগীর খান। কিন্তু টি-শার্টের মূল্য দেখে অবাক। এ প্রতিবেদককে তিনি জানান, দাম এত বেশি। সিকে ব্র্যান্ডের একটি টি-শার্ট গত কয়েকমাস আগে কিনেছিলাম ৯শত ৯৫ টাকা দিয়ে। কিন্তু এখন দেখি একই টি-শার্টের দাম ১৭ শত ২০ টাকা! মাত্র কয়েক মাসে প্রায় দ্বিগুণ!
এ ব্যাপারে ‘বেল’ এর সেলস কর্মকর্তার কাছে এতো বেশি দাম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে না পারলেও অরিজিনাল চায়না টি-শার্ট এজন্য এতো দাম বলে জানান।
একই অবস্থা সাত রঙ, শ্রিহাণ, ফ্যাশন, বি২ইন, রিচসহ সব দোকানেই। তবে সকলেরই দাবি একটাই- বিদেশি ব্র্যান্ডের পোশাক তাই দাম বেশি।
‘শ্রিহাণ’ এর এক সেলস কর্মকর্তা জানান, তাদের দোকানের প্রতিটি পণ্য দেশের বাইরে থেকে আনা। ইমপোর্ট করে আনা এসব পোশাকের মান দেশি পোশাকের তুলনায় ভালো হওয়ায় দামও তুলনামূলক বেশি।
কিন্তু এমন মাত্রাতিরিক্ত দামের সাথে দ্বিমত প্রকাশ করলেন- আমদানিকারক মো. আবুল কালাম। তিনি বলেন- বাংলাদেশের বেশির ভাগ পোশাক আমদানি হয় ভারত, চায়না এবং থাইল্যান্ড থেকে। আমদানি খরছ দেয়ার পর দেশি পণ্যের থেকে দাম সামান্য বেশি হওয়ার কথা, কিন্তু দিগুণ-তিনগুন হওয়ার কথা না। একটি পক্ষ বিদেশি ব্র্যান্ডের নাম দিয়ে ঈদকে সামনে রেখে মানুষকে হয়রানি করছে।
এদিকে পোশাক বিদেশি হলেও দাম মাত্রাতিরিক্ত এবং ঈদকে কেন্দ্র করে ক্রেতাদের কাবু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এসব ব্যাপারে প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন বলে জানালেন বরইকান্দির বাসিন্দা নয়ন আহমেদ ইমন। পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ বার্টন থেকে কেনাকাটা করে বের হয়ে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, সারা বছরই প্রায় কম বেশি কাপড় কেনা হয়। কিন্তু দেখা যায় এমনিতে যে শার্টের দাম ৭/৮ শ টাকা থাকে ঈদ আসলেই এই শার্টের দামই ১২ থেকে ১৫ শত টাকার উপর চলে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ঈদের বাজার, বিদেশি ব্র্যান্ড এসব অজুহাত দেখিয়েই আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত দাম।
খাদ্য দ্রব্যের বাজারে যেমন প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয় তেমনই পোশাকের ক্ষেত্রেও তা করা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসনের আরডিসি উম্মে সালিক রুমাইয়া বলেন, আপাতত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম চললেও পোশাকের বাজারের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।