প্রচ্ছদ

প্রকৃতির এক বিশাল সৌন্দর্যের শহর সিলেট

26 August 2019, 18:40

শুভ প্রতিদিন

রিয়ান মাসুম :

সিলেট হচ্ছে দু’টি পাতা একটি কুঁড়ির সবুজ রংয়ের নয়নভরানো চারণভূমি, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণের রয়েছ শ্রী চৈতন্যের তীর্থস্থান। পাহাড়,টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা-বাগান যেন সিলেটকে ডেকে রেখেছে সবুজ চাদরে। এছাড়াও সিলেটের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে প্রকৃতির রূপ-লাবণ্যের অপূর্ব সৌন্দর্যের ভান্ডার। এখানকার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা অতি সহজে মুগ্ধ করে যে কাউকে।

সিলেটে রয়েছে গ্যাস আর তেলের মত প্রাকৃতিক সম্পদ। বাউল আর মরমী গানের মন মাতানো ঢেউ রয়েছে সিলেট বিভাগে। এখানে জন্মেছেন মরমী কবি হাসন রাজা, রাধা রমন দত্ত, আরকুম শাহ, দূরবীন শাহ ও শাহ আব্দুল করিমের মত মরমী সাধকরা। আর সিলেট নগরের ঘাইপাড়াকে বলা হয় বেতের বাক্সেট। আর তাই এবারের ঈদে পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে সিলেট।

 

জাফলং: যারা সৌন্দর্য পিপাসু তাদের পক্ষে জাফলংয়ের আকর্ষণ এড়ানো কিছুতেই সম্ভব নয়। সিলেটের পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এই জাফলং। ‘আকাশে হেলান দিয়ে পাহাড় ঘুমায়- এ চিত্র দেখতে হলে যেতে হবে সিলেটের জাফলংয়ে। এখানে দূর থেকে তাকালে মনে হবে আকাশের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে পাহাড়। প্রকৃতিকন্যা নামেও রয়েছে আলাদা পরিচিতি। ওপারে খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়, এপারে নদী। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে চলছে ঝর্ণা, আর নদীর বুকে স্তরে স্তরে সাজানো নানা রঙের নুড়ি পাথর। পাহাড়ের গায়ে নরম তুলার মতো ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘরাশি। প্রকৃতির এই অপরূপ রূপ আর কোথায় পাবেন, জাফলং ছাড়া। এখানেই শেষ নয় সমতল চা-বাগান, খাসিয়া পল্লী, পানের বরজ-কী নেই জাফলংয়ে! জাফলংয়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে ধলাই ও পিয়াইন নদী। সীমান্তের ওপারে ডাউকি নদীর ওপরে দুই পাহাড়ের মাঝখানে ঝুলন্ত সেতু বাড়িয়ে তুলেছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য। পাহাড়, পানি, পান, পাথর, ঝর্ণা সব মিলিয়ে জাফলং যেন এক রূপকথার রাজ্য।

পান্তুমাই: বিছনাকান্দির পাশেই অপরুপ সৌন্দর্যের ওপর পাহাড়ি ঝর্ণা আপনাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। নাম তার পান্তুমাই। এখানে পাহাড় নদীর আর ঝর্ণা সাজিয়ে বসে আছে সৌন্দর্যের ঢালি। বিছনাকান্দি দেখার পর ট্রলারে চলে যেতে পারেন রিজার্ভে। আর না হলে হাদারপার বাজারে গিয়ে গুদারা পার হয়ে ওপার থেকে মোটর সাইকেলে চলে যান পান্তুমাই।

বিছনাকান্দি: ভারতের মেঘালয় পাহাড়। পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে এসেছে মনোলোভা কয়েকটি পাহাড়ি ঝর্ণা। পাহাড়ের ওপার থেকে কলকল শব্দে ঝর্ণার ধারায় চলে এসেছে গোয়াইনঘাটের পিয়াইন নদীতে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বিছনাকান্দি। অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের সমাহার বিছনাকান্দির সৌন্দর্য্য বিস্ময়কর। কাছেই দাঁড়িয়ে দেখা যায়, মেঘে ঢাকা মেঘালয় পর্বতমালা আর সে পাহাড় থেকে প্রবাহিত সু-শীতল ঝর্ণাধারার তীব্র প্রবাহ। পাথরে ভরা পুরো এলাকায় পানিতে বিছানো রয়েছে হাজারো নুড়ি পাথর। বিছনাকান্দির চারপাশ যত দেখবেন ততই মুগ্ধ হবেন। শরীর এলিয়ে দিতে মন চাইবে পাথর জলের বিছানায়। হাতের কাছে দেখা যাবে আকাশে হেলানো উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি। চোখ ধাঁধানো সব দৃশ্য দেখতে দেখতে এক সময় এই পাহাড়ের কোলে এসে চোখে পড়বে বিস্তীর্ণ পাথর কোয়ারি। বর্ষায় পাথর কোয়ারি পানিতে ডুবু ডুবু থাকে। এখানে পাথরের বিছানার উপরে পাশের পাহাড় থেকে অনবরত স্বচ্ছ পানির ধারা বহমান।

মাধবকুন্ড: মাধবকুন্ড ঝর্ণা যা বাংলাদেশের সুউচ্চ জলপ্রপাত হিসেবে পরিচিত। সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা নামক উপজেলায় এই সুন্দর নয়নাভিরাম জলপ্রপাতটির অবস্থান। একসময় পর্যটকদের কাছে প্রাকৃতিক জলপ্রপাত মানেই ছিলো মাধবকুন্ড। এখন দেশের ভেতরে আরো অনেক ঝর্ণার সন্ধান মিলেছে। তবে এখনো জলপ্রপাত অনুরাগী পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন মাধবকুন্ড ঝর্ণা। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশে-বিদেশে পরিচিত এই স্থানটিতে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের রেস্টহাউজ ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি উদ্যোগে পুরো এলাকাটিকে ঘিরে তৈরি করা হচ্ছে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক।