প্রচ্ছদ

‘দেশের মাটি, পানি রক্ষার যুদ্ধে প্রথম শহীদ আবরার’

08 October 2019, 15:35

শুভ প্রতিদিন

প্রতিদিন ডেস্ক:
দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার যুদ্ধে এবং দেশের মাটি, পানি রক্ষার যুদ্ধে আবরার ফাহাদকে প্রথম শহীদ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘দেশের মাটি, পানি, সম্পদ অন্যের হাতে চলে যাবে, অথচ এটির বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে তাকে অকথ্য টর্চার করে হত্যা করা হবে-এই হচ্ছে বর্তমান সরকারের নীতি। এই নীতির বাস্তবায়নে যতদিন এরা ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন জনপদের পর জনপদ বিরোধী নেতাকর্মীদের পুড়িয়ে, থেঁতলিয়ে, পিটিয়ে, গুলি করে হত্যা করতে থাকবে। কারও ক্ষমতার প্রতি তীব্র আবেগ, এদের বিবেককে বিবশ করে দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফেসবুকে দেশবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দেওয়ার অপরাধে নারকীয় কায়দায় রাতভর নির্যাতন চালিয়ে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা খুন করেছে বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে। তার মতো নিরীহ নিরপরাধ দেশপ্রেমিক মেধাবী ছাত্রকে হত্যার মাধ্যমে ছাত্রলীগ প্রমাণ করেছে যে, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নেই।’

ফেনী নদীর নাম হোক-‘আবরার নদ’ উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী সরকারের মাটি বিক্রি, পানি বিক্রি, দেশ বিক্রির অমানবিক নষ্টবুদ্ধির বিরুদ্ধে সকলকে মৃত্যুপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে হবে। ক্ষমতাসীনদের মূঢ় অহমিকার বিরুদ্ধে সকলকে প্রতিরোধে সামিল হতে হবে।’

ফাহাদ হত্যার ঘটনায় মামলা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আসামি হিসেবে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রহস্যজনকভাবে ১৯ জনের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্তের নাম নেই। শেরে বাংলা হলের ২০১১ নম্বর রুম তথা টর্চার সেলটি কার? তাকে বাঁচাতে বুয়েট প্রশাসন উঠেপড়ে লেগেছে। নির্লজ্জ বুয়েট প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডকে সামান্য অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু বলে বিবৃতি দিয়েছে।’

খুনিদের আড়াল করতে আন্দোলনরত ছাত্রদের সিসিটিভিতে ধারণকৃত ২০ মিনিটের ভিডিও এডিট করে মাত্র দেড় মিনিটের একটি ক্লিপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা।

ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী বলেছে, আবরার হত্যার দায় ছাত্রলীগের নয়। এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘সেটা আমরাও বলি। প্রকৃত অর্থে এটার দায় তাদের যারা তাদেরকে দানব বানিয়েছে এবং দানব হওয়ার সুযোগ দিয়ে ব্যবহার করেছে ও করছেন বিরোধী শক্তিকে রক্তাক্ত করতে এবং ভোটারদের ভোট কেড়ে নিতে।’

এ সময় আবরারকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব। একই সঙ্গে তার প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।