প্রচ্ছদ

পেঁয়াজের অজানা ৯টি তথ্য

08 October 2019, 18:05

শুভ প্রতিদিন

অনলাইন ডেস্ক:
আমাদের প্রতিদিনের তরকারিতে পেঁয়াজ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। প্রতিদিনের রসনা বিলাসে পেঁয়াজ ছাড়া যেন চলেই না। আর এ পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যে নাকাল বাংলাদেশিরা। পেঁয়াজের উচ্চ মূল্যে যখন মানুষের মাথা গরম তখনই পেঁয়াজের ৯টি অজানা তথ্য জানিয়েছে বিবিসি বাংলা।

পেঁয়াজ সবজি না মসলা?

পেঁয়াজ মসলা হলেও এটিকে অনেকেই সবজি মনে করে থাকেন। মসলা জাতীয় এ উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম এলিয়াম সেপা। এটি লিলি গোত্রের একটি উদ্ভিদ।

পেঁয়াজ কোথায় উৎপন্ন হয়?

পৃথিবীর সব দেশেই কম বেশি পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়। ভারত ও চীনে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হর্টিকালচার বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘যেসব দেশে বেশি বৃষ্টি হয় না, পাশাপাশি হালকা শীতও থাকে সেসব দেশগুলোতেই প্রধানত পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়। সেজন্যই বাংলাদেশে শীতকালে পেঁয়াজ হয়। সে সময় দামও কম থাকে।’

বাংলাদেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের ধরণ

অধ্যাপক এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ তেমন বড় হয় না। আকারে বড় না হলেও বাংলাদেশের পেঁয়াজের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এটি ঝাঁঝালো বেশি হয়। কারণ এতে এলিসিনের মাত্রাটা বেশি থাকে। যা রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। এর জন্য আমাদের রান্নাটাও অনেক বেশি মজা হয়।’

পেঁয়াজের খাদ্যগুণ

পেঁয়াজ নানা খাদ্যগুণে ভরপুর। পেঁয়াজের মূল উপাদান পানি, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার। পেঁয়াজে জলীয় অংশের পরিমাণ প্রায় ৮৫%। এছাড়াও পেঁয়াজে ভিটামিন সি, বি এবং পটাশিয়াম থাকে।

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম বলেন, ‘পেঁয়াজের খোসা ছাড়ালে যে গাঢ় বেগুনি রঙের একটি আস্তরণ পাওয়া যায় এতে বেশি পরিমাণে এ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ নিবারণ করে এমন উপাদানও রয়েছে পেঁয়াজে। এটি হাড়েরও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।’

পেঁয়াজ রান্নায় স্বাদ যোগ করে?

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম , ‘পেঁয়াজে যেহেতু সালফার উপাদান থাকে তাই এটি রান্নায় এক ধরণের ঝাঁজালো স্বাদ যোগ করে।’ পেঁয়াজ রান্নায় নিজের স্বাদ বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য উপাদানের স্বাদও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ তিতা, টক, মিষ্টি বা ঝাল এমন ধরনের কোনো স্বাদ যোগ করে না। তবে সালফার কম্পোনেন্ট থাকায় পেয়াজ খাবারের যেকোনো স্বাদকে অনেক বেশি তীব্র করে।’

দীর্ঘক্ষণ রান্না করলে কি পেঁয়াজের খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়?

অনেকেরেই ধারণা অনেকক্ষণ রান্না করলে পেঁয়াজের খাদ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পেঁয়াজে ভোলাটাইল কিছু উপাদান রয়েছে যা নাকে-মুখে লাগে সেগুলো হয়তো নষ্ট হয়। কিন্তু পেঁয়াজের অন্য উপাদানগুলো নষ্ট হয় না।

পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম বলেন, ‘বেশিক্ষণ ধরে রান্না করা হলে ভিটামিন ও পটাশিয়াম কমে আসতে পারে। এছাড়া বাকি সব খাদ্য উপাদান নষ্ট হয় না।’

তবে উচ্চ তাপমাত্রায় রান্না করলে খাদ্যগুণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে মধ্যম তাপমাত্রায় পেঁয়াজ রান্না করার পরামর্শ দেন তিনি।

পেঁয়াজ কাটলে চোখ দিয়ে পানি পড়ে কেন?

অনেক সময় দেখা যায়, পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। পেঁয়াজ কাটার সময় চোখ দিয়ে পানি পড়ার কারণ হিসেবে কৃষি বিজ্ঞানী এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পেঁয়াজের ভলাটাইল কম্পাউন্ড যা এলিসিন নামে পরিচিত, এটি পেঁয়াজের ঝাঁঝের জন্য দায়ী। আর কাটার সময় এটি চোখে লাগে বলেই চোখ জ্বালাপোড়া করে এবং পানি পড়ে।’

পেঁয়াজের ওষুধি গুণ কী কী?

বিবিসি গুড ফুড তাদের প্রতিবেদনে বলছে, ঐতিহাসিকভাবে পেঁয়াজের নানা ওষুধি ব্যবহার রয়েছে। প্রাচীন আমলে কলেরা এবং প্লেগের প্রতিরোধক হিসেবে ব্যবহার করা হতো পেঁয়াজ। রোমান সম্রাট নিরো ঠাণ্ডার ওষুধ হিসেবে পেঁয়াজ খেতেন বলেও জানা যায়।

এ এফ এম জামাল উদ্দিন বলেন, ‘পেঁয়াজে থাকা এলিসিন নামে উপাদান অ্যান্টি-ফাঙ্গাল এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করে। অনেক সময় এটি কিছু কিছু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখা, ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে পেঁয়াজের ব্যবহার দেখা যায়।’

তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজ কাঁচা খেলে সর্দি-কাশি খুব কম হয়। এটি মানুষের শরীরে রোগ-প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।’

পেঁয়াজের গন্ধ দূর করবেন যেভাবে

অনেক সময় পেঁয়াজ খেলে মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। এতে করে অন্য মানুষের কাছে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। পেঁয়াজ কাটলেও অনেক সময় হাতে দুর্গন্ধ হয়। তবে কিছু উপায় জানা থাকলে পেঁয়াজের বাজে গন্ধ এড়ানো সম্ভব।

পেঁয়াজের কারণে হাতে দুর্গন্ধ হলে হাত প্রথমে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুতে হবে। তার পর লবণ দিয়ে হাত কচলে আবার ধুয়ে ফেলতে হবে। এবার সাবান এবং গরম পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিলেই আর গন্ধ থাকবে না।

পেঁয়াজ খেয়ে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ তৈরি হলে তা দূর করতে হলে ধনিয়াপাতা বা একটি আপেল খেয়ে নিন। দেখবেন মুখের এ দুর্গন্ধ দূর হয়ে যাবে।