প্রচ্ছদ

সিলেটে শুভ্রতা ছড়াচ্ছে শরৎকালের কাশফুল ।

09 October 2019, 14:52

শুভ প্রতিদিন

সুমন ইসলাম:

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। দুই মাস পর পরই আমাদের দেশে ঋতুর পরিবর্তন হয়। এই ঋতু পরিবর্তনে এখন বইছে শরৎকাল। আর প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় শরতের আগমনী বার্তা। শরতের বিকালে নীল আকাশের নিচে দোলা খায় শুভ্র কাশফুল। শরতের শুভ্র কাশবনে ঘুরতে ঘুরতে শরীর-মন জুড়িয়ে যাবে। এমনই সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আপনার মন ফিরে আসতে মানা করবেই। শত কাদাময় মন কে মুহূর্তের মধ্যেই পবিত্র কোমল নির্মল স্বচ্ছ মন তৈরী করতে পারে শরৎ এমনটাই মনে করেন বাংলা সাহিত্যের অনেক কবি সাহিত্যিক। আর তাঁরা প্রাণভরে লিখেছেন শরত নিয়ে বাংলা কবিতা। কবির পড়ক্তিমালা হয়েছে শরৎ সিক্ত মহাকবি কালিদাস শরৎ বর্ণনায় লিখেছেন, “প্রিয়তম আমার, ঐ চেয়ে দেখ, নব বধূর ন্যায় সুসজ্জিত শরৎকাল সমাগত” বাংলা সাহিত্যের আদি মধ্যযুগের কবি চন্ডীদাসের কবিতায় শরৎকে তুলে ধরেছেন এভাবে “ভাদর মাসে অহোনিশি অন্ধকারে। শিখি ভেক ডাহুক করে কোলাহলে তাওনা দেখিবো যবে কাঞ্চির মুখ চিন্তিতে চিন্তিতে মোর ফুটি জায়ির বুক”। চট্টগ্রামের কবি আলাওল তাঁর পদ্মাবর্তী কাব্যের ষট ঋতু বর্ণন খন্ডে দেখি শরৎনিশি যাপনের এক মিলন মধুর দৃশ্য, “আইল শরৎ ঋতু নির্মল আকাশ।দোলায় চামর কাশ কুসুম বিকাশ। শহুরে ক্লান্তি দূর করে দেবে কাশফুলের নরম ছোঁয়া। প্রতিদিনের ব্যাস্ত জীবন আর যানবাহনের শব্দদূষণ থেকে রেহাই পেতে সিলেট শহরের নিকটবর্তী পাবেন এমন জায়গা।

 

সিলেট শহর থেকে ৯.কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার অন্তর্গত ফেঞ্চুগঞ্জ রোডে লালমাটিয়া এলাকায় রয়েল সিটির পাশেই বিশাল মাঠে ছড়িয়ে আছে শরতের শুভ্র কাশফুল। খোলা জায়গা বিশাল মাঠের কাশফুলের বাহারি সৌন্দর্য আকর্ষিত করছে দর্শনার্থীদের, ছবি তুলা, সেল্ফি আড্ডায় ভ্রমণপিপাসুদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এই স্থানটি।প্রতিদিন কাশফুলের নির্মল হাওয়া উপভোগের জন্য সেখানে ভীড় করে সব বয়সী মানুষ। দিনশেষে পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসতে দেখা যায় পর্যটকদের। সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জিবা মাসুদা জানান, শররের যান্ত্রিককতা মাঝে মাঝে বিষণ্ণ করে তুলে, তাই সুযোগ পেলেই প্রকৃতির অপরুপ দৃশ্য দেখতে ঘুরে বেড়াই, আর বর্তামানে শরৎকাল আর এই শরৎকালের প্রকৃতির বিশেষ আকর্ষণ কাশফুল তাই এখানে ঘুরতে এসেছি, সিলেট শহর থেকে ঘুরতে আসা ঝুমকি বিশ্বাস জানান, এখানে কাশফুল এত সুন্দর আর মনোমুগ্ধকর পরিবেশ না আসলে বুজতামই না। উপশহরে বাসিন্দা রকিব আল মাহমুদ জানান, এখানে স্বপরিবাহে ঘুরতে এসেছি এমম শান্ত পরিবেশ আর কাশফুরে শুভ্রতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। স্থানীয় বাসিন্দ খালেদ আহমেদ জানান,প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর থেকেই সন্ধার পৃর্ব পর্যন্ত শহর থেকে অনেক পর্যটকরা এখানে আসেন কেউ কেউ বন্ধু বান্ধব মিলে কেউ বা পরিবার নিয়ে অনেক ভাল লাগে আমাদের এলাকায় তাদের ঘুরতে আসা দেখে, আমরাও আনন্দ পাই। কিভাবে যাবেনঃ সিলেট শহরের বন্দর বাজার থেকে সি এন জি অটোরিক্সা করে রিজার্ভ যেতে পারবেন ভাড়া ১৫০/২০০ টাকা আবার লোকাল সিনজি অটোরিক্সায় বন্দর বাজার পয়েন্ট থেকে দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন চত্বর ২০ টাকা, আবার ঐখান থেকে লোকাল সিন জি করে ১০ টাকায় পৌছে যাবেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শুভ্র কাশফুলে।