প্রচ্ছদ

হুমকির মুখে দয়ারবাজার : বালু
থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদা

09 October 2019, 18:12

শুভ প্রতিদিন

আব্দুল্লাহ আল নোমান, কোম্পানীগঞ্জ:
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের দয়ারবাজার ও কালাইরাগ এলাকায় ধলাইনদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা নিত্যদিনের ঘটনা। ইজারাবিহীন জায়গা থেকে অবৈধভাবে ছোট লিষ্টার বোমা মেশিন দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। দীর্ঘ দিন ধরে একটি বালু উত্তোলনের সুযোগ করে দিয়ে কথিত জায়গার মালিকরা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিদিন দয়ারবাজার এলাকায় কয়েকশত বলগেট নৌকা থেকে লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করা হয়। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে দয়ারবাজার এলকা হুমকির মুখে পড়েছে। যে-কোনো সময় নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে এই বাজার।

স্থানীয় পাথর ও বালু খেকোরা পুলিশের নাম ভাঙিয়ে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত নৌকা থেকে ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। প্রতিদিন কয়েকশত বল গেট নৌকা দয়ারবাজার এলাকা থেকে বালু নিচ্ছে। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় এলাকায় বেশ বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে নদী ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে।

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ৫-এর ১ উপধারা অনুযায়ী, পাম্প বা ড্রেজিং বা অন্য কোনো মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। ধারা ৪-এর (খ) অনুযায়ী, সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারাজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারী স্থাপনা হলে অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা বাহুল্য, এসব আইন প্রয়োগ ও প্রতিপালনের কোম্পানীগঞ্জে তেমন জোড়ালো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যাক্তি জানান, প্রতিদিন দয়ারবাজার ইজারাবিহীন এলাকায় কয়েকশত বলগেট নৌকা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয়রা বার বার বাধা দিলেও কথিত জায়াগামলিক সিন্ডিকেটের সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু অসাধু লোক জড়িত থাকায় তেমন কোনো ফল মিলছেনা। প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলনের ফলে কালিবাড়ি মাঠসহ স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও দয়ারবাজার নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। এছাড়াও তিনি জানান, কথিত জায়গামালিক সিন্ডকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন স্থানীয় আলীম উদ্দিন, মছন হাজী, সাহাব উদ্দিন ও গফুর। তাদের সিন্ডিকেটের সাথে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু সদস্যদের সখ্যতা থাকায় সেখানে তাদের একক রাজত্ব চলছে। তাদের বিরুদ্ধেও কেউ কোনো কথা বলার সাহস পাচ্ছেননা।

অন্যদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় সাংবাদিক নামধারী এক ব্যক্তি একটি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত বিশেষ সুবিধাভোগ করছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরো বলেন, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা না নিলেও বালু সিন্ডিকেটের বাহিরে কেউ চাঁদা আদায় করলে তাদের বিরুদ্ধে থানাপুলিশ বেশ সক্রিয় রয়েছে। এব্যাপারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রকদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে ইজারা নিয়ে টোল ও রয়্যালিটি আদায় করা হয়। এর বাহিরে কারো চাঁদাবাজি করার সুযোগ নেই।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজন ব্যানার্জি জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিগত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি অভিযান চালিয়ে শতাধিক লিষ্টা বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়েছে। কোনোভাবেই কোম্পানীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবেনা।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শামিম আহমদ বলেন, পুলিশ ও প্রশাসনের কাছ থেকে সঠিকভাবে সহযোগিতা পেলে অবশ্যই বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে আমি কাজ করছি।