প্রচ্ছদ

কেন ডিমকে বলা হয় ‘সুপার ফুড’? জানুন ডিম সম্পর্কে সঠিক তথ্য

১১ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৪৬

শুভ প্রতিদিন

অনলাইন প্রতিদিন ডেস্ক:

কোনো বাড়ির রান্নাঘরে ডিম থাকবে না, এটা মোটামুটি বিরল ঘটনা। মধ্যবিত্তের সংসারে সস্তায় প্রোটিন পেতে ডিমের বিকল্প নেই।  অথচ এই ডিম নিয়েই নানা ভুল ধারণার শিকার আমরা। কারও মতে ডিম খেলে হজমের সমস্যা হয়, কেউ ভাবেন হাঁসের ডিমে বাড়ে বাত আর সর্দি। অনেকেই কোলেস্টেরলের ভয়ে ডিমের কুসুম বর্জন করেন। তাদের জন্য সুখবর হলো, আধুনিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কুসুম খাওয়া যাবে নিশ্চিন্তে। এতে কোলেস্টেরলের মাত্রার কোনো পার্থক্য হবে না।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রোটিনের স্বাভাবিক উৎস হলো ডিম। অথচ ডিমের খাদ্যগুণ সম্পর্কে অনেকেরই স্বচ্ছ ধারণা নেই। সেই ধারণাগুলোর গলদ ঢেকে দিতেই ১৯৯৬ সালে  অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ‘ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশন’ এর এক সম্মেলনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল প্রতি বছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্ব জুড়ে ডিমকে জনপ্রিয় করার কর্মসূচি হিসেবে ‘ওয়ার্ল্ড এগ ডে’ পালন করা হবে। তারপর থেকেই সারা বিশ্বে পালিত হয়ে আসছে ডিম দিবস।

ডিম হলো এই গ্রহের সবচেয়ে বেশি পুষ্টিতে ঠাসা খাবার। তাই একে ‘সুপার ফুড’-এর শিরোপা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। পুষ্টিবিজ্ঞানী সুব্রত খাশনবিশের মতে, ‘ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত উচ্চমানের। এই প্রোটিন আমাদের মস্তিষ্ক আর পেশি গঠনে এবং রোজকার ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেয়। ডিমে আছে এমন কিছু অ্যামিনো অ্যাসিড যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানসিক স্থিরতা বাড়ায়।’

কেউ কেউ ভাবেন, দেশি মুরগি বা হাঁসের ডিমেই বেশি উপকার। পোলট্রির ডিম খুব একটা উপকারী নয়। ডিম খেলে সর্দি-কাশি হয় বা বাতের ব্যথা অবধারিত। কিন্তু এসবই ভুল ধারণা। হার্টের অসুখ বা কোলেস্টেরলের ভয়ে অনেকেই ডিম খেতে চান না। তবে পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে, যদিও ডিমে অনেক কোলেস্টেরল আছে; কিন্তু সেটা আমাদের কোনো ক্ষতি করে না। বরং হার্টের উপকারী হাই ডেনসিটি কোলেস্টেরলের( HDL) পরিমাণ বাড়িয়ে হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে। এক সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গিয়েছে, হার্ট অ্যাটাক বা ব্রেন স্ট্রোকের জন্য কোলেস্টেরলের ভূমিকা খুবই কম।

যাদের ডিমে অ্যালার্জি, তাদের ধারণা, ডিম খেলেই ত্বকে র‍্যাশ হবে অথবা পেট খারাপ হবে। অনেকেই ভাবেন, বেশ কিছু অসুখের মূলেই নাকি ডিম। এই সব কথা অমূলক বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা। সুস্থ শরীরে দিনে ৪টি পর্যন্ত ডিম খাওয়াই যায়। এমনকি লাল ডিম ও সাদা ডিমে প্রোটিন ও পুষ্টিগুণের কোনো পার্থক্য নেই। তবে কাঁচা ডিম খাওয়া একেবারেই নিরাপদ নয়, জীবাণুর সংক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। পুরো সেদ্ধ বা রান্না করা ডিম খাওয়ার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। অবশ্য বেশি কড়া ভাজায় ডিমের কিছু গুণ নষ্ট হয়ে যায়। একমাত্র ডিমে আছে সঠিক পরিমাণে ক্লোরিন। তাই বুদ্ধি বাড়াতে আর স্মৃতিশক্তি বজায় রাখতে ডিম খেতে হবে।

ডিমের কিছু রাসায়নিক রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএলকে বন্ধু কোলেষ্টেরল এইচডিএলে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। চোখ ভালো রাখতেও ডিমের জুড়ি নেই। এর মধ্যে থাকা লিউটেইন, জিআক্সানথিন নামক দু’টি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট চোখ ভালো রাখে। ডিমে আছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, যা রক্তের খারাপ উপাদান ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ডিম খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে। ডিমের প্রোটিন অত্যন্ত সুষম আর সহজপাচ্য। ক্যালোরি কম থাকায় ডিম ওজন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। ডিম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।