প্রচ্ছদ

পাল্টে যাচ্ছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দৃশ্যপট

২০ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:০০

শুভ প্রতিদিন

প্রথমবারের ১৬টি গোপন ক্যামেরার আওতায় পুরো ক্যাম্পাস

অবশেষে দীর্ঘদিন পর পরিবর্তনের হাওয়া লাগতে শুরু করেছে নারী শিক্ষার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে। সিলেট অঞ্চলের নারী শিক্ষার অন্যতম বিদ্যাপীঠ এই কলেজটি নানা সংকটে জর্জরিত ছিল। শিক্ষার্থীদেরও অভিযোগও ছিল পাহাড়সম। তবে প্রফেসর হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বদলে গেছে অনেক চিত্র। মাত্র ২৩ মাসের ব্যবধানে অনেক পরিবর্তন এসেছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে।
জানা যায়, ১৯৩৯ সালে নারী শিক্ষা বিস্তারে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এরপর থেকে সিলেটের নারীদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে এই প্রতিষ্ঠানটি। সূচনালগ্ন থেকে নানান সমস্যা আর সংকটের মধ্য দিয়েই অতিবাহিত হয়ে আসছিলো কলেজের সকল কার্যক্রম। সাম্প্রতিকালে এ কলেজে অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েকজন অধ্যক্ষের বদলিজনিত কারনে প্রায় অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এই শূণ্যতায় কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে ২০১৭ সালের শেষ সময়ে এই কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন সিলেট মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে থাকা প্রফেসর হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি। এরপর থেকেই সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র পরিবর্তন হতে শুরু হয়।
কলেজ সুত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি’র মহিলা কলেজে চাকুরীর ২৩ মাস সময়ের মধ্যে তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্ঠায় বদলে গেছে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের বেহাল দশা। এছাড়াও কিছু উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও নতুন উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাছাড়া কলেজের প্রশাসনিক ভবন সংস্কার, অধ্যক্ষর রুমের আধুনিকায়ন, দুটি নামাজ কক্ষ, উপাধ্যক্ষের রুমসহ, কলেজ অফিসে ৩টি টয়লেট সংস্কার, ছাত্রীদের কমনরুমে ২টি টয়লেট, একাডেমিক ভবনে ৩টি টয়লেট, এবং অডিটোরিয়ামে ৬ টি টয়লেট সংকার করা হয়। পাশাপাশি ছাত্রী হোস্টেলের টয়লেট ও বাথরুম সংকার, হোস্টেলে ডাইনিং রুম সংস্কার কাজ হয়েছে। তাছাড়া সিসিকের সার্বিক সহযোগিতায় কলেজে নান্দনিক প্রধান ফটকের দেয়াল নির্মাণ চলমান রয়েছে।
তাছাড়া প্রথমবারের মত কলেজের শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখতে পুরো ক্যাম্পাসকে ১৬ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।
এছাড়া, কলেজের বিজ্ঞান ভবনের সামনের জায়গায় মুক্তমঞ্চ, একাডেমিক ভবন ও বিজ্ঞান ভবনের নীচে সংযোগ সাধন ও ছাউনি স্থাপন করা হয়েছে। এদিকে বহিরাগতদের ঠেকাতে একাদশ শ্রেণী থেকে মাস্টার্স (শেষ পর্ব) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কলেজ ড্রেস এবং সকল শ্রেণীর শিক্ষার্থীর আইডি বাধ্যতামূলক করেছে কলেজ প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা নিশ্চত করেছে কলেজ প্রশাসন।
কলেজের বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাবেরা বেগম বলেন, আমি এখানে পড়াশোনা করছি ২০১৬ সাল থেকে। দীর্ঘ এ সময় ধরে এখানকার প্রতিটা ইট বালি কণা আমার পরিচিত। আমি মনে করি মহিলা কলেজ একটি স্বপ্নের নাম। এখানে যারা পড়াশোনা করতে আসে তারা সবাই মেধাবী। আমাদের কলেজের পড়াশোনার মানও খুব ভালো। আমাদের কলেজ প্রতি বছর ভালো রেজাল্ট করে শীর্ষ স্থান দখল করে। আমাদের স্যার ম্যাডামরাও আমাদের প্রতি খবই আন্তরিক। পড়াশোনা নিয়ে যেকোন সমস্যায় পড়লে তারা আমাদের তাৎক্ষণিক সমাধান করে দেন।
সানজিদা নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, এখানে আমি পড়াশোনা করছি দুই বছর। এ দুই বছরে আমার প্রাপ্তির শেষ নেই। এখানকার শিক্ষক শিক্ষিকা সবাই খুব আন্তরিক। আমি তাদের ভালোবাসা পেয়েছি। আমি পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি করছি। অনেক সময় চাকরি ও পড়াশোনা দুটোই ঠিক রাখতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। এক্ষেত্রে আমার সহপাঠীরা আমাকে পাঠ বুঝতে সহযোগিতা করে। এখানে প্রায়ই আমরা মাঠে বসে গ্রুপ প্র্যাক্টিস করি। আমি এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে চলে গেলেও এই ক্যমাপাসের কথা ভুলতে পারব না। আমাদের ক্লাসগুলো প্র্যাক্টিক্যাল অরিয়েন্টেড হলে খুবই ভালো হতো। যেমন কিভাবে সবার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে হয়, ইংরেজীতে কথা বলা, কম্পিউটার অফিসিয়াল প্রোগ্রাম ইত্যাদি। এগুলো চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সহায়ক।

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হায়াতুল ইসলাম আকঞ্জি বলেন, কলেজের অধ্যক্ষ’র চেয়ারে বসে দায়িত্ব বেড়ে গেছে। এই চেয়ারে বসে দেখি শুধু নেই আর নেই? তবে সবার সহযোগিতায় এই অল্পসময়ের মধ্যে যা করেছি আশা করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনেক দুর এগিয়ে যাব।
তিনি জানান, তার ২৩ মাসের মধ্যে যে সকল কাজ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ১ কোটি টাকা দিয়ে মহিলা কলেজে তিনটি বাস উপহার ।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের গুণগত মানোন্নয়নে বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা, সৃজনশীলতা বৃদ্ধির জন্য ইন-হাউজ ফেকাল্টি ট্রেনিং প্রবর্তনের মাধ্যমে কর্মরত শিক্ষকদের প্রশিক্ষন দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার অবসরের সময় আর বেশি দিন নয়। তিনমাস আছে, জানুয়ারীতে শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আর যদি কিছুটা দিন পেতাম তাহলে কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নের চিত্র পাল্টে দিতাম। অধ্যক্ষ বলেন, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। বর্তমান সরকারের আমলে সিলেটসহ দেশের অনেক কিছু উন্নয়নের রুপরেখা বাস্তবায়িত হয়েছে।
তিনি বলেন এই কলেজকে ঘিরে আমার স্বপ্ন হচ্ছে, এই কলেজের ছ্ত্রাীরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১-২০৪১ বাস্তবায়ন চাই। স্বপ্নজয়ের আকাংখা আর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্ব যেমন বাংলাদেশকে এনে দিয়েছে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতির হাতছানি। তেমনি সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে স্বপ্নজয়ের আকাংখা আর দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বে মানসম্মত শিক্ষাদানে বাংলাদেশের মাঝে উপস্থাপন করা হবে নারী শিক্ষার নবদিগন্ত। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চিন্তা চেতনা এনে দিবে বিশ্ব জয় করে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি।